কম্পিউটার ভাইরাস কি?

প্রিয় বন্ধুরা আজ আমি চলে এসেছি আপনাদের মাঝে নতুন একটি টপিক নিয়ে। আমার আজকের টপিক হলো কম্পিউটার ভাইরাস কি ? এই আর্টিকেলে আমরা কম্পিউটার ভাইরাস সম্পর্কে বিস্তারিত সব কিছু জানবো । কম্পিউটা ভাইরাস জানার আগে আমাদের আগে যেটা জানতে হবে সেটা হলো ভাইরাস কি? ভাইরাস কথাটি শুনলেই মনে হয় খারাপ কিছু একটা তাই না। আসলে ভাইরাস খারাপ একটা জিনিস। তো চলেন আগে আমরা জেনে নিই ভাইরাস কি? ভাইরাস কাকে বলে? ভাইরাস অর্থ কি?

ভাইরাস কি?

ভাইরাস এমন একটি জীব যেটি প্রানী দেহের ভেতরেই বংশবৃদ্ধি করতে পারে। সাধারণত আমরা ভাইরাস খালিচোখে দেখতে পারিনা । ভাইরাস দেখার জন্য আমাদের প্রয়োজন হয় শক্তিশালী অণুবীক্ষণ যন্ত্র ।

আমরা সাধারণত জানি ভাইরাস জীব দেহ প্রাণীদেহে আক্রামন হয়ে থাকে। কিন্তু এখন ডিজিটাল যুগে এসে ভাইরাস বিভিন্ন স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ,কম্পিউটার কে ও আক্রান্ত করছে। বিষয়টা একটু অন্যরকম তাই না। কারণ আমরা জানি যে জীবিত দেহে ভাইরাস আক্রান্ত হয়। এখন দেখতেছি আমরা ডিজিটাল যুগে এসে স্মার্ট ফোন, কম্পিউটার, ল্যাপটপে ভাইরাস দেখতে পাচ্ছি। তাহলে চলুন আর দেরি না করে আমরা জেনে নেই কম্পিউটার ভাইরাস কি ?আমাদের মূল টপিকে চলে যায়। তাহলে আমাদের আলোচনার বিষয় হলো –কম্পিউটার ভাইরাস কি? কম্পিউটার ভাইরাস কাকে বলে?

কম্পিউটার ভাইরাস কি?

এক কথায় বলা যায়, কম্পিউটার ভাইরাস হচ্ছে এমন একটি ক্ষতিকারক প্রোগ্রাম, যেটা কিনা কম্পিউটারের স্বাভাবিক কার্য ক্ষমতা কে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। এবং এই সমস্ত ভাইরাসগুলো কম্পিউটার মেমরিতে প্রবেশ করে, কম্পিউটারের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। এবং যার ফলে আমাদের কম্পিউটার ব্যবহারে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

কম্পিউটার ভাইরাস এমন একটি ক্ষতিকারক প্রোগ্রাম যেটা ও নরমাল ভাইরাসের মতো কম্পিউটারের ভেতর ভার্চুয়ালি বংশবিস্তার করে কম্পিউটারে ক্ষতি করে থাকে। যে প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার ভাইরাস দ্বারা আক্রমণ হয় সেই প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার ভাইরাস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তারপর অন্য প্রোগ্রাম বা সফট্ওয়ারে আক্রমণ করে। কম্পিউটার সফটওয়্যার কি? কিভাবে কাজ করে? আপনি যদি না জেনে থাকেন অথবা আরো ভালভাবে জানতে নিচের আর্টিকেল টি পড়তে পারেন।

সফটওয়্যার কি? কিভাবে কাজ করে?


তাহলে আশা করি বুঝতে পারছেন কম্পিউটার ভাইরাস কি ? কাকে বলে? তাহলে চলেন এবার জেনে নেই কম্পিউটার ভাইরাস কত প্রকার? ও কি কি?

কম্পিউটার ভাইরাস কত প্রকার ও কি কি?

ব্যাসিক্যালি কম্পিউটার ভাইরাসের কোন প্রাকার নাই, বিভিন্ন ধরণের কম্পিউটার ভাইরাস প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে। তাই কম্পিউটার ভাইরাস কে নির্দিষ্ট প্রাকারে বিভেদ করা বেশ শক্ত। কম্পিউটার ভাইরাস আজ জেটা আছে কাল সেটা নাও থাকতে পারে । দেখা গেলো কাল কোন নতুন ধরণের ভাইরাস তৈরি হয়েছে। আর তাই আপনাকে অনলাইন জগতে সেইফ থাকতে হলে প্রতিনিয়ত আপডেট থাকতে হবে। জানতে হবে কিভাবে এসব ভাইরাস বা খারাপ ক্ষতিকর ব্যাপার স্যাপার গুলা থেকে দূরে থাকা যায়।

তো পৃথিবীতে এখনো পর্যন্ত অনেক ধরণের ভাইরাস তৈরি হয়েছে । এর মধ্যে অনেক গুলা বেশ উল্লেখযোগ্য ভাবে সবার সামনে এসেছে এবার আমরা সেগুলা নিয়ে কিছুটা জেনে নিবো।

কম্পিউটার ভাইরাস এর কয়েকটি নাম

পৃথিবীতে অনেক ধরনের কম্পিউটার ভাইরাস আবিষ্কৃত হয়েছে, আর প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কম্পিউটার ভাইরাস আবিষ্কার হয়ে চলেছে। আর তাই কম্পিউটারে ভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য আমাদের টেকনোলজি নিয়ে আপডেট থাকতে হবে। এখনও পর্যন্ত পৃথিবীতে অনেক ধরনের কম্পিউটার ভাইরাস কম্পিউটারে আক্রমণ করেছে। এর মধ্যে থেকেকিছু ভাইরাসের নাম নিচে তুলে ধরা হল। যেগুলো বেশ ভয়ঙ্কর-

  • ক্রিপ্টোলকার (Crypto locker)
  • স্টর্ম ওয়ার্ম (Storm Worm)
  • স্যাসার ও নেটস্কাই (Sasser & Net sky)
  • মাইডুম (My Doom)
  • এস কিউ এল স্ল্যামার
  • নিমডা (Nimda)
  • কোড রেড ও কোড রেড-২ (Code Red and Code Red II)
  • দ্য ক্লেজ ভাইরাস (The Klez Virus)
  • আইলাভইউ (ILOVEYOU)
  • মেলিসা (Melissa)

তাহলে আমরা বিশেষ কিছু কম্পিউটার ভাইরাসের নাম জেনে নিলাম । তাহলে এবার চলেন আমরা জেনে নেই কিভাবে এই ভাইরাসের লক্ষণ বোঝা যায়।

কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ

কম্পিউটারে ভাইরাস আক্রান্ত হলে কোন কোন সময় সেটা বুঝতে পারা বেশ কঠিন, এমন ভয়ংকর ভাইরাস ও আছে, তবুও সাধারন ভাবে বেশ কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়। যা থেকে ধারনা নেওয়া যেতে পারে যে আমাদের কম্পিউটারে ভাইরাস রয়েছে। তো আমরা এখন সেগুলা জেনে নিবো – যে ভাইরাস আক্রমণ করলে কোন কোন দিক গুলা ফুটে উঠে।

  1. কম্পিউটার আগের থেকে বেশ স্লো কাজ করবে।
  2. যে কোন ফাইল বা প্রোগ্রাম ওপেন বা ক্লোজ হতে বেশ টাইম নিবে।
  3. হুট করে দেখবেন আপনার কম্পিউটারের স্টোরেজ ফুল হয়ে জাচ্ছে, এতে করে পিসি আরো স্লো কাজ করবে।
  4. কম্পিউটার ইউজ করা অবস্থায় আপনি ব্যাবহার করছেন না এমন সব ফাইলের নটিফিকেশন শো করবে।
  5. হুট হাট করে পিসি হ্যং হতে পারে। এবং বেশ কিছুক্ষন ধরে পিসি হ্যাং হয়ে থাকতে পারে।
  6. যে কোন ধরনের সফটওয়্যার ইন্সটল কারার সময় আগের থেকে তুলনামূলক টাইম বেশি লাগতে পারে।
  7. কম্পিউটার এর বুট টাইম এ পার্থক্য দেখা দিতে পারে।
  8. আপনি কোন একটা কাজ করছেন তার মধ্যে হুট করে, পিসি অন্য প্রোগ্রামে ঢুকে জেতে পারে।
  9. হুট করে দেখবেন পিসিতে এমন সব ফাইল জমা হয়েছে যার নাম আপনি পড়তে পারছেন না।
  10. Exe,Com,bat ইত্যাদি ফরম্যাটের ফাইল error করে নষ্ট করে দেয়।

উপরের লক্ষণ গুলা পিসিতে থাকলেই যে আপনার কম্পিউটার ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে সব সময় এমনটি নাও হতে পারে। অনেক সময় হার্ডওয়্যার বা সফটওয়্যার প্রব্লেম এর কারনেও উপরের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। সব সময় চেষ্টা করবেন টেকনলজি সম্পর্কে আপডেট থাকতে। কেননা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ভাইরাস আবিষ্কার হচ্ছে আর তাই কম্পিউটার ও ইন্টারনেট টেকনলোজি নিয়ে একটু সচেতন থাকলেই এসব ভাইরাস থেকে সহজেই রক্ষা পাওয়া জেতে পারে।

এছাড়া কম্পিউটার ভাইরাস মুক্ত রাখার উপায় নিয়ে যদি আপনি ইন্টারেষ্টেড থাকেন তাহলে কমেন্ট করে জানাবেন। তাহলে কম্পিউটার ভাইরাস মুক্ত রাখার উপায় ন্নিয়ে আমরা ডেডিকেটেড একটি আর্টিকেল লিখবো। যেখানে কম্পিউটার ভাইরাস মুক্ত রাখার উপায় নিয়ে খুটিনাটি সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করবো। এবং এন্টি ভাইরাস কি আসলেই আমাদের জন্য উপকারী নাকি ক্ষতিকর একটি সফটওয়্যার মাত্র? আর যদি উপকারী হয়ে থাকে তাহলে কোন কোন এন্টি ভাইরাস আপনি ব্যাবহার করতে পারেন, সেসব নিয়েও আলোচনা হবে। তো আজ এ পর্যন্তই ।

তাহলে বন্ধুরা আমরা আজ ভাইরাস কি? কম্পিউটার ভাইরাস কি ? কম্পিউটার ভাইরাস কাকে বলে ? কম্পিউটার ভাইরাস কত প্রকার কি কি? কম্পিউটার ভাইরাসের লক্ষণ সমূহ। সব কিছু জানলাম। আশাকরি আপনাদের আর কম্পিউটার ভাইরাস সম্পর্কে অজানা কিছু নাই। আর যদি কিছু জানার থাকে তাহলে কমেন্ট করতে ভুলবেন । কমেন্টের রিপ্লাই পেয়ে যাবেন। যতসম্ভব আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। ধন্যবাদ। 💟

4.5/5 - (2 votes)

2 thoughts on “কম্পিউটার ভাইরাস কি?”

Leave a Comment