ফ্রিল্যান্সিং কি? ফ্রিল্যান্সিং আদ্যপান্ত ।Freelancing ki?

ফ্রিল্যান্সিং কি আপনি আপনি জানেন না? OMG, ওকে মাম্মা আই য়াম হেয়ার আজ আমরা ফ্রিল্যান্সিং এর ব্যাপ্যারে কথা বলবো। জি হ্যা ইটস ওল এবাউট ফ্রিলেন্সিং 🙃 সো লেটস বিগিন দ্যা ব্লগ – 

Table of Contents

ফ্রিল্যান্সিং কি? Freelancing ki?

ফ্রিলেন্সিং ব্যাপারটা শুরু হয় ১৯৯৮ সালের দিকে, তখন থেকেই ফ্রিলেন্সিং,ফ্রিল্যান্সিং ব্যাপারটা চলে আসছে। মূলত ফ্রিল্যান্সিং কথাটার অর্থ বা মানে হচ্ছে মুক্ত পেশা, মানে যার কোন ধরা বাধা নাই। নিজেই বস, নিজেই মালিক, নিজেই সবকিছু । যেখানে সবকিছু চলবে আপনার ইচ্ছা মত। মজার না ব্যাপারটা? হুম্ম অনেক মজার, আজ আমরা ফ্রিল্যান্সিং এর ব্যাপারে অনেক কিছু জানবো, যাতে করে কেউ আমাদের কাছে ফ্রিলেন্সিং কি? জানতে চাইলে আমরা তাকে সুন্দর করে বুঝিয়ে বলতে পারি। আর কাউকে কোন কিছু বুঝিয়ে বলতে পারলে বা বোঝাতে পারলে একটা অন্যরকম ফিলিংস কাজ করে তাইনা?

তো যেকথা বলছিলাম, ফ্রিল্যান্সিং-

এই ফ্রিল্যান্সিং ব্যাপ্যারটা নিয়ে কিন্তু অনেক গুজব আছে বা অনেক গল্প আছে । আসলে ফ্রিল্যান্সিং হছে এমন একটি পেশা যেখানে আপনি কোন অফিস ছাড়া ঘর কিংবা গাছতলা বসেই ইন্টারনেট কানেকশন ও নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে অন্যের কাজ করে অর্থ উপার্জন করাকে বোঝাই। মনে করুন, আপনি যদি কোন একটা প্রথিষ্ঠানে কাজ করতেন, সেখানে আপনাকে অনেক নিয়ম কানুন মেনে চলতে হতো, থাকতে হতো রুলস নামক বেড়ির মাঝে। চাইলেই মিলত না ছুটি আর বস যদি হয় কড়া তাইলে তো কথাই নাই । 

আবার চাকরির বাজারে মামা খালু আর ঘুষ, এই সব কিছু থেকে আলাদা হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং । ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারে আপনার এসব বাধা ধরার কিচ্ছু নাই, লাগবে না মামা খালু লাগবে না এম্পি মিনিস্টারের সুপারিশ, জাস্ট একটা জিনিস প্রয়োজন জাস্ট একটা জিনিস, সেটা হচ্ছে কাজ করার সক্ষমতা। মানে আপনাকে কাজ জানতে হবে, তাহলেই আপনিও হতে পারেন একজন সফল ফ্রিল্যান্সার । এক কথাই- নিজের স্কিল বা দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অন্য কারো কাজ করে উপার্জন করারে ফ্রিল্যান্সিং বলে ।

ফ্রিল্যান্সার কি? Freelancer ki?

যে খেলে সে খেলোয়াড়, যে ড্রাইভ করে যে ড্রাইভার, যে যে জানে সে জানোয়ার 😃 থুক্কু ঐ কি যেন একটা🤪 ঠিক তেমনি যে ফ্রিলেন্সিং করে সে ফ্রিল্যান্সার, সিম্পল 😊 তাহলে বুহজতেই পারছেন ফ্রিলেন্সার কি করে

আচ্ছা ফ্রিল্যান্সিং কি সেটা তো জেনেই গেলাম তাইনা? এখন কি করে কাজ করতে হবে কি কাজ করতে হবে সেটা জানতে হবে না? হুম্ম হবেইতো । চলুন জেনে নেওয়া যাক কিভাবে আপনিও হতে পারবেন একজন ফ্রিল্যান্সার ।

ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে হলে যা যা করতে হবেঃ

  1. লক্ষ্য স্থির করতে হবে ।
  2. সেই অনুযায়ী শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।
  3. ধৈর্য ধারণ করতে হবে।
  4. আত্মবিশ্বাসী হতে হবে ।

আর সবথেকে বড় ব্যাপ্যার হচ্ছে কাজ জানতে হবে। আমি আগেই বলেছি আপনাকে কাজ জানতে হবে । কোন একটা বিষয়ে অভিঞ্জতা অর্জন করতে হবে । এখন যদি বলেন কি বিষয়ে অভিঞ্জতা অর্জন করতে হবে? মূলত ফ্রিল্যান্সিং এ যেসব বিষয় নিয়ে কাজ হয় আপনাকে সেসব বিষয়েই কাজ করার অভিঞ্জতা অর্জন করতে হবে । ফ্রিলেন্সিং মারকেটপ্লেস গুলাতে বিভিন্ন ধরনের কাজ পাওয়া যায় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু কাজ হল –

ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্টঃ

web design & development

আমরা জানি এখন কার দুনিয়া সবই অনলাইন বা ইন্টারনেট ভিত্তিক। এন্টারটেইনমেন্ট বা বিনোদন থেকে শুরু করে বাজার করা, ডাক্তার এর উপদেশ নেওয়া ইত্যাদি এখন আমরা সবই ইন্টারনেট এর মাধ্যমে করে থাকি। আর আমরা যে ইন্টারনেট জগত টাই হচ্ছে ওয়েব সাইটের সাথে সম্পর্কিত (web site) code:free। আর যারা এসব ওয়েব সাইট ডিজাইন বা ডেভেলপমেন্ট এর কাজ করে তাদের কে বলা হয় ওয়েব ডিজাইনার বা ওয়েব ডেভেলপার । আপনি যদি নিজেকে একজন ওয়েব ডেভেলপার হিসাবে প্রস্তুত করতে পারেন, মার্কেট প্লেসে আপনার কাজের অভাব হবে না ।

গ্রাফিক্স ডিজাইনঃ

graphich design

আচ্ছা আপনি কি ছবি আকতে ভালবাসেন? রঙ করতে? ভালোবাসেন? তাহলে গ্রাফিক্স ডিজাইন হতে পারে আপনার পছন্দের বিষয়। গ্রাফিক্স ডিজানে মূলত বিভিন্ন ধরনের লোগো বানানো, ব্যানার বা পোস্টার ডিজাইন করা আর্ট করা এসব হয়ে থাকে। আপনি যদি হন ক্রিয়েটিভ আর রঙের পাগল গ্রাফিক্স ডিজাইন হতে পারে আপনার পছন্দের বিষয়। আর ফ্রিল্যান্সিং মারকেটপ্লেসে গ্রাফিক্স ডিজাইনারের মুল্য অনেক বেশি ।

ভিডিও এডিটিং এন্ড এনিমেশনঃ

video editing

আমরা মুভি বা নাটক দেখি বা কার্টুন সব গুলা ভিডিওই কিন্তু কোন না কোন একজন ভিডিও এডিটর কে দিয়ে এডিট করা হয়েছে বা এনিমেশন তৈরি করা হয়েছে । আর এখন এই ওনলাইনের জগতে পড়াশোনা থেকে শুরু করে নাচ গান সবই আমরা ভিডিও দেখে শিখতে পারি । তাই ফ্রিলেন্সিং মার্কেটপ্লেসে ভিডিও এডিটরের চাহিদাও কিন্তু ব্যাপক । আপনি চাইলেই আপনাকে একজন এডিটর হিসাবে গড়ে তুলতে পারেন।

ডিজিটাল মার্কেটিং:

digital marketing pic

সব কিছুর মতো আমরা কিন্তু কেনাকাটাও কিন্তু অনলাইন ভিত্তিক করছি তাইনা? অনলাইনে ইন্টারনেটের মাধ্যমে এই পণ্য বিক্রয় বা বিক্রয়ের মাধ্যমকেই ডিজিটাল মার্কেটিং বলে। আর তাই এই ডিজিটাল মার্কেটিং এর চাহিদাও প্রচুর । আপনি নিজেকে একজন সুচতুর মার্কেটার হিসাবে উপস্থাপন করতে পারলেই আপনার কাজের অভাব হবার কথা না ।

ট্রান্সলেশন বা লেখালেখি করাঃ

data entry job

লিখতে ভালবাসেন? চাইলে এই লেখা টাকে পুজি করে আপনি হতে পারেন একজন ফ্রিল্যান্সার। নিজের ব্লগ সাইট খুলে ও লিখতে পারেন বা অনলাইন মার্কেটপ্লেসে লেখালেখির জন্য রাইটর খোজা হয় । আপনার লেখার মান যদি হয় জোশ তাহলে জাস্ট লেখালেখি করে আপনি ফ্রিলেন্সিং করতে পারেন । আবার অনলাইনে ট্রান্সেলশনের ও কাজ পাওয়া যায়। আপনি যদি বিভিন্ন ভাষায় পারদর্শী হন স্পেশালি ইংলিশ । তাহলে আপনি এই ট্রান্সলেশনের কাজ করেও আরন করতে পারেন ।

এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনঃ

SEO search engine optimize

একটা সাইট কে গুগলের প্রথম পেজে নিয়ে আসার জন্য বিভিন্ন ভাবে সার্চ ইঞ্জিন কে অপটিমাইজ করা হয়, তাকে এসইও বলে । মার্কেটে এই এসইও এক্সপার্ট দের কদর ও অনেক। তাই আপনিও হয়ে যেতে পারেন একজন এসইও এক্সপার্ট ।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গড়তে আমি কোনটা শিখবো তাইতো?

দেখুন- মনে করুন কেউ একজন একটা ওয়েব সাইট তৈরি করবে। তাহলে সে কার কাছে যাবে নিশ্চয় একজন ওয়েব ডিজাইনার বা ডেভেলপারের কাছে। এখন ঐ কোম্পানির ওয়েব সাইটের জন্য একটা লোগো প্রয়োজন তাহলে এখন কার প্রয়োজন? নিশ্চয় গ্রাফিক্স ডিজাইনারের । 

আবার ঐ সাইটের তথ্য সুন্দর ভাবে তুলে ধরার জন্য ভিডিও বা এনিমেশন তৈরি করা প্রয়োজন তার জন্য প্রয়োজন একজন এডিটর এর, ঐ সাইটের তথ্য বা আর্টিকেল গুলা লেখার জন্যও একজন আর্টিকেল রাইটার প্রয়োজন একই ভাবে সেই সাইট কে গুগলের সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাঙ্ক করানোর জন্য ও প্রয়োজন একজন এসইও এক্সপার্ট এর । 

তার মানে এর সব জিনিস গুলাই একে ওপরের পরিপূরক । অনলাইন মার্কেটপ্লেসে প্রত্যেক টা জিনিসেরই প্রয়োজন রয়েছে তাই এখন প্রয়োজন আপনার স্কিল বা দক্ষতা। আপনি কোন বিষয়ে কতটা দক্ষ সেটাই প্রমাণ করবে আপনি কতটুকু সফল হবেন ।

কোন বিষয়ে নিয়ে কাজ করবো ?

দেখুন আমি আগেও বলেছি আপনি যে বিষয় নিয়ে কাজ করেন না কেনো আপনাকে দক্ষ হতে হব, তাহলে আপনি সফল হবেন। তবে নিশ বা বিষয় সিলেক্ট করার ব্যাপ্যারে আবার কিছু কথা আছে, আপনাকে কিছু বিষয়ে খেয়াল করে কাজ শুরু করতে হবে যেমন –

  • প্রথমেই যে বিষয় খেয়াল রাখবেন সেটা হচ্ছে, ভালোলাগা আপনার কোন বিষয়ে ভালোলাগে, কোন বিষয় নিয়ে জানতে শিখতে ভালবাসেন? কোনটা নিয়ে কাজ করতে আপনি সাচ্ছন্দবোধ করবেন।
  • এমন বিষয় সিলেক্ট করা উচিত যেটার মার্কেট ভ্যালু বা চাহিদা আছে। কারন কাজ না পেলে অভিঞ্জতা থেকেও তো লাভ হবেনা ।
  • যে বিষয়ে আপনি দক্ষ বা কাজ পারেন।
  • কোন বিষয়ে কাজ শুরু করার আগে উপরের বিষয়গুলো খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবো?

মানুষের এই ফ্রীল্যান্সিং শেখানোর নাম করে আমাদের দেশে এক শ্রেণীর লোক কোচিং সেন্টার খুলে নামমাত্র শিক্ষা দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে নিচ্ছে। মূলত ফ্রিল্যান্সিং শেখার জন্য প্রয়োজন আপনার ইচ্ছা । আর আপনার সব প্রয়জন মেটাতে গুগল এবং আরও ভালোভাবে বুঝতে ইউটিউব তো আছেই। তবে আমার মতে সব থেকে ভাল হয় যদি হাতে কলমে শেখা হয়। মানে কেউ একজন নিজে কাজ করে তার থেকে সেখা বা জানা । 

তাহলে অনেকাংশেই সহজ হয়ে যাই। চাইলে বিশস্ত এবং সার্ভিস দেখে যে কোন বিষয়ের ওপর কোর্স করা যেতে পার, বাট বি কেয়ারফুল । আবার সরকারি ভাবে এখন বিভিন্ন উপজেলা বা সদরে এবং অনলাইনে ফ্রী ফ্রিল্যান্সিং কোর্স করার সুজগ দেওয়া হচ্ছে । সেখান থেকেও শিখতে পারেন ।  

ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য ইংলিশ বা ইংরেজীঃ

মূলত যেসকল অনলাইন মার্কেটপ্লেসে আপনি কাজ করবেন সব খানেই কাজ দেওয়া বেশির ভাগ ক্লায়েন্ট বা বায়ার গুলো হয় বিদেশি। আর তাই সে সব বিদেশি বায়ার দের সাথে যোগাযোগ সম্পাদন করার জন্য প্রয়োজন ভাষা। কিন্তু সে তো আর আপনার বাংলা ভাষা বুঝবেনা তাইনা? আর তাই ফ্রিলেন্সিং এর জন্য এই বায়ার বা ক্লায়েন্ট এর সাথে কমিউনিকেশন করার জন্য ইংরেজি জানাটা খুব জরুরি 

ফ্রিল্যান্সিং শিখতে কতদিন সময় লাগবে?

আমরা সবাই ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকাম করতে চাই কিন্তু কাজ না শিখলে ক্যামনে পারবেন বলুন? আপনাকে কোন বিষয়ে কাজ করতে হলে সে বিষয়ে ভাল ভাবে ঞ্জান থাকাটা অনেক জরুরি। তাই ৬থেকে ১২ মাস সময় ব্যয় করে যে কোন বিষয়ে সম্পূর্ণ ধারণা বা পরিপূর্ণ ঞ্জান লাভ করুন। তারপর কাজের দিকে আসলে আপনি সফল হবেন ই ।

আর যদি মনে করেন ৬মাস বা ১ বছর সময় ব্যয় না করে আপনি ২ দিনে সব জেনে ফেলতে পারবেন তাহলে তো কুল । 😊 দেখুন আমরা একটা সাধারণ চাকরি করার জন্য ক্লাস 1 থেকে ওনারস,মাস্ট্রাস পর্যন্ত প্রাই ১৯,২০ বছর সময় নিয়ে লেখা পড়া করে ২০,৩০ হাজার টাকার একটা চাকরির জন্য কত কম্পিটিশন। 

তারপর চাকরি পেলেও আপনি চাকরি করছেন মানে অন্যের অধীনে কাজ করছেন। তাদের কথা মতো চলছেন। অথচ ফ্রিল্যান্সিং করে ভাল মানের টাকা উপার্জনের জন্য আপনি ৬মাস ১ বছর ব্যয় করতে রাজি নয়। তাহলে ক্যামনে হবে বলুন! তাই আপনার উচিত সময় নিয়ে যে কোন বিষয়ে পরিপূর্ণ ভাবে ঞ্জান লাভ করা । আর এভাবে না করে সামান্য জেনে ফ্রিল্যান্সিং জগতে সফল হতে চাওয়া নিতান্তয় বোকামি ছাড়া কিছুনা । 

কোথায় কাজ করবেন ? 

ফ্রিল্যান্সিং কাজ গুলো মূলত বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে পাওয়া যায়। এই ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলাতে আপনি কাজ করতে পারেন। এসব মার্কেটপ্লেসে যারা কাজ জমা দেয় তাদের কে বলা হয় বায়ার বা ক্লায়েন্ট, আর যারা কাজ স্মম্পন্ন করে তাদের বলা হয় ফ্রিলেন্সার ।এই সমস্ত মার্কেটপ্লেসে একটি কাজের জন্য অসংখ্য ফ্রিলেন্সার বিড বা আবেদন করতে পারে তার মাঝ থেকে ক্লায়েন্ট বা বায়ার জাকে খুশি তাকে সিলেক্ট করে নিতে পারে। 

ফ্রিল্যান্সারের সাথে বায়ারের চুক্তির পর বায়ার নির্ধারিত টাকা ঐ মার্কেটপ্লেসে জমা করে এবং কাজ শেষ হলে ফ্রিল্যান্সার তার টাকা পাওয়ার নিশ্চয়তা পায় । আর এই পুরা প্রসেসটার জন্য ফ্রিল্যান্সার কে ঐ মার্কেটপ্লেস কে কিছু পরিমাণ ফি বা কমিশন দিতে হয়। এই কমিশন বা ফি এর পরিমাণ মার্কেটপ্লেস সাইট অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে ।  

অনলাইনে হাজার হাজার এমন মার্কেটপ্লেস রয়েছে আপনি চাইলেই সেখানে একাউন্ট করে কাজ করতে পারেন। তবে আপনি যদি কাজ জানেন একটা থেকে দুইটা সাইটে কাজ করার মাধ্যমেই আপনি সফল হতে পারবেন । নিচে জনপ্রিয় কিছু ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসের নাম উল্লেখ করা হল –

ফ্রিল্যান্সারডট কমঃ অনলাইন মার্কেটপ্লেসে মধ্যে ফ্রীল্যান্সার ডট কম হচ্ছে একটা অন্যতম নাম। এখানে আপনি আপনার কাজ অনুযায়ী ফিক্সড প্রাইস কিংবা ঘণ্টা চুক্তিতে কাজ করতে পারবেন । এখানে প্রচুর পরিমাণে কাজ পাওয়া যায় ।

ফাইবার ডট কমঃ ফ্রিলেন্সিং এর জন্য ফাইবার ডট কম হচ্ছে একটি আদর্শ মার্কেটপ্লেস। এখানে সর্বনিম্ন 5$ ডলার থেকে আপনার কাজ অনুযায়ী অনেক উচ্চ মুল্যের কাজ পাওয়া সম্ভব। ফাইবার ডট কমে ফ্রিল্যান্সারদের সাধারণত সেলার হিসাবে অভিহিত করা হয় । এখানে একজন ফ্রিল্যান্সার তার কাজের দক্ষতা অনুযায়ী বিভিন্ন প্যাকেজ তৈরি করে তা সেল দেওয়ার জন্য প্রফাইল সাজিয়ে থাকেন। একে বলা হয় গীগ । উপরের দেখানো ফ্রীলেন্সিং মাধ্যম গুলার সব গুলার কাজ ই পাবেন এখানে ।

আপওয়াক ডট কমঃ ফ্রিলেন্সিং মার্কেটপ্লেসের মধ্যে আপওয়ার্ক হচ্ছে আরেকটি জনপ্রিয় নাম । ২০০৩ সালে ওডেস্ক নামে তৈরি হয় এই মার্কেটপ্লেসটি । তারপর ২০১৫ তে এসে আরো একটি মার্কেটপ্লেস ইল্যান্স এর সাথে যোগ দিয়ে এর নাম হয় আপওয়ার্ক। এখানে একজন ফ্রিল্যান্সার তার দক্ষতা অনুযায়ী নির্ধারিত মূল্যে বা ঘণ্টা হিসাব করে কাজ করতে পারে।

পিপল পার আওয়ারডট কমঃ পিপল পার আওয়ার হচ্ছে একটি  যুক্তরাজ্যভিত্তিক অনলাইন মার্কেটপ্লেস । এখানেও একজন বায়ারের সেবা কেনা এবং একজন ফ্রিলেন্সারের সেবা বিক্রি করার সুযোগ রয়েছে । পিপল পার আওয়ার কে সংক্ষেপে পিপিএইস বলা হয়।

গুরু ডট কমঃ অন্যান্য মার্কেটপ্লেসে মতো গুরু ডট কমও একটা অনলাইন বেস মার্কেটপ্লেস সারা বিশ্বের ৩০ লক্ষাধিক লোক এই মার্কেটপ্লেসে কাজ করে তাদের ফ্রীলেন্সিং ক্যারিয়ার গড়ছে।

মার্কেটপ্লেস গুলাতে আপনার করণীয়ঃ

উপরে দেখানো ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলার যেকোন ২,৩ টা তে ভাল ভাবে কাজ করতে পারলে আপনি প্রচুর ইনকাম করতে পারবেন। এই সমস্ত মার্কেটপ্লেস গুলাতে আপনাকে কাজ করার জন্য একাউন্ট তৈরি করতে হবে, তারপর আপনার কাজের দক্ষতা অনুযায়ী আপনার প্রফাইল টিকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করতে হবে ।

সেক্ষেত্রে আপনাকে প্রফাইলে আপনার কাজের বিবরণ, কাজের ধরণ, কাজের ওভিঞ্জতা আপনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরতে হবে । আপনি যত আকর্ষণীয় ভাবে আপনাকে উপস্থাপন করতে পারবেন ক্লায়েন্ট আপনার ব্যাপ্যারে তটটাই জানতে পারবে এবং আপনাকে কাজ দিতে আগ্রহি হবে এবং আপনার কাজ পাওয়ার নিশ্চয়তা তত বাড়বে।

ফ্রিল্যান্সিং কি হালাল ? 

একজন মুসলিম এর উপার্জন এর জন্য হালাল হারাম জিনিসটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। জি হ্যা, এখানে আপনি আপনার দক্ষতা কে কাজে লাগিয়ে সেবা দিয়ে উপার্জন করছেন । আপনি যদি ন্যায় ও নিতির সঙ্গে কাজ করেন এটা হালাল তবে কিছু ক্ষেত্র ছাড়া ।

ফ্রিল্যান্সিং এর টাকা উঠানোর ঊপায়ঃ

বেশির ভাগ মার্কেটপ্লেস গুলোতে আপনি ব্যাঙ্ক একাউন্টের মাধ্যমে টাকা উত্তলন করতে পারবেন। বা সবথেকে জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে পেপাল বা বিট কয়েন,স্ক্রিল,পেওনিওর ইত্যাদি মাধ্যম উল্লেখযোগ্য। আপনি কাজ করতে পারলে টাকা উঠানো নিয়ে আপনার চিন্তা করতে হবেনা। জাস্ট ফোকাস ওন ইওউর ওয়ার্ক ।

ফ্রিল্যান্সিং করে কত টাকা ইনকাম করা সম্ভব?

বরাবরের মত আমি আবার বলবো আপনাকে দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে কাজ জানতে হবে তাহলে ফ্রিল্যান্সিং  থেকে প্রচুর পরিমাণে আয় করা সম্ভব । নিচে বাংলাদেশের আপওয়ারক মার্কেটপ্লেসে কাজ করা কয়েক জনে freelancer এর কাজের ধরণ, কাজের সফলতার হার এবং প্রতি ঘণ্টার মূল্য দেখুন কি পরিমাণে।

এর থেকেও বেশি মানুষ করছে । দক্ষতা,সময়,কাজের ধরণ ভেদে আরনিং টাও আসবে। ভাবুন তো পার আওয়ারে যদি এই রকম আরনিং আপনি করতে পারেন । তাহলে আপনার ফিলিংস কেমন হবে ! বাংলাদেশে 1$ এর বাংলায় হিসেব করলে কমপক্ষে ৮৪ টাকা করে আসে । এবার আপনি হিসাব করুন। উনারাদের প্রতি ঘণ্টার কাজের মুল্য কত !

top upwork earner in bangladesh, bangladeshi top freelancer, top freelancer in bangladesh
top upwork earner in bangladesh, bangladeshi top freelancer, top freelancer in bangladesh
top upwork earner in bangladesh, bangladeshi top freelancer, top freelancer in bangladesh
top upwork earner in bangladesh, bangladeshi top freelancer, top freelancer in bangladesh

    

শেষ কথাঃ

আশা করি ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে আর কোন প্রশ্ন নাই। ফ্রিল্যান্সিং কি? বা ফ্রিল্যান্সার কি করে  বা ফ্রিলেন্সিং মার্কেটপ্লেস নিয়ে এখন কেউ আপনাকে প্রশ্ন করলে আপনি তাকে বুঝাতে সক্ষম হবেন, ভালো লাগলে শেয়ার করতে পারেন। কোন প্রশ্ন বা মতামত থাকলে কমেন্ট বক্সে জানাবেন । লেখাটি কেমন হয়েছে জানাতে ভুলবেন না । ধন্যবাদ ❤

5/5 - (1 vote)

1 thought on “ফ্রিল্যান্সিং কি? ফ্রিল্যান্সিং আদ্যপান্ত ।Freelancing ki?”

Leave a Comment