কম্পিউটার কি? কম্পিউটার কাকে বলে? কম্পিউটারের জনক কে?

হেই হ্যালো, কি অবস্থা সবার? আই থিং সবাই ঠিকঠাক। প্রযুক্তির শহরে স্বাগতম। বরাবরের মতো আজও আমরা টেকনলজি বিষয়ে আলোচনা করবো আজ আমাদের আলোচনার বিষয় হল – কম্পিউটার,কম্পিউটার কি? কম্পিউটার কাকে বলে? আধুনিক কম্পিউটারের জনক কে? কম্পিউটার কিভাবে কাজ করে?

এছাড়া কম্পিউটার সম্পর্কে হাবিজাবি খুটিনাটি বিষয় নিয়ে দুকলম লেখার চেষ্টা করবো। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে – আপনি যদি কম্পিউটার নিয়ে আগ্রহী পারসন হয়ে থাকেন । অথবা প্রযুক্তি প্রেমী হয়ে থাকেন। তাহলে আজকের লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়তে পারেন আই হোপ আপনার ভাল লাগবে ।

কম্পিউটার কি?

মূলত এক কথায় কম্পিউটার হচ্ছে হিসাব বা গণনার যন্ত্র । কম্পিউটার শব্দটি এসেছে গ্রীক শব্দ কম্পিউট থেকে যার অর্থ ই হচ্ছে হিসাব করা বা গননা করা। আর যে ডিভাইস মূলত এই হিসাব গণনার কাজ করে সেটাই কম্পিউটার । কিন্তু মজার ব্যাপার হল শুরুর দিকে কম্পিউটার শুধুমাত্র হিসবা করার জন্য ব্যাবহার করা হলেও এখন কিন্তু কম্পিউটার মানে অন্য কিছু। এখন কম্পিউটার মানেই এক জাদুর বাক্স। যেখান থেকে আপনি চাইলে অদ্ভুদ সব জিনিস আবিষ্কার করতে পারেন।

এক সময়ের হিসাব গণনার সেই যন্ত্রটি যুগের সাথে পরিবর্তন হতে হতে প্রযুক্তির পরিবর্তন এর সাথে সাথে আজ অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এখন কম্পিউটার দিয়ে আপনি চাইলে যে কোন কিছু করে ফেলতে পারেন। এখন খেলাধুলা থেকে শুরু করে, যোগাযোগ, আয় ইনকাম, প্রযুক্তি, বাজার ব্যাবস্থা, চিকিৎসা, বিঞ্জান সব কিছুতে এখন কম্পিউটার ব্যাবহার করা হয়। মূলত কম্পিউটার হচ্ছে এমন একটি যন্ত্র যেটি তথ্য গ্রহণ করে এবং জাদুর বাক্সে সেগুলা প্রসেসিং করে আমাদের সামনে সে অনুযায়ী বিভিন্ন ডাটা উপস্থাপন করে।

উদাহরণ দিয়ে বলতে গেলে ধরেন একটা গৃহিণীকে কিছু বাজার এনে দিলে সে সেটা গ্রহণ করে । তারপরে সেই বাজার দিয়ে সে সুন্দরভাবে রান্না করে অবশেষে সবার সামনে সেই খাবার উপস্থাপন ও পরিবেশন করে। কম্পিউটার ও অনেক টা সেভাবে আমাদের প্রবেশ করা ডাটাকে প্রসেসিং করে তার যথাযথ আউটপুট আমাদের সামনে পেশ করে।

কম্পিউটার তেমনি একটি প্রযুক্তি। আশাকরি কিছুটা বুঝতে পেরেছেন কম্পিউটার কি? কম্পিউটার কি কাজ করে। কম্পিউটারকে আপনি কিছু কাজ দিলে সেটা সে গ্রহণ করে গ্রহণ করার পর সে বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন ভাবে সুন্দরভাবে কাজগুলো করে আপনার সামনে উপস্থাপন করে। চলুন এবার জেনে আসা যাক কম্পিউটারের জনক কে?

আধুনিক কম্পিউটারের জনক কে?

কম্পিউটার আবিষ্কার করেন চার্লস ব্যাবেজ। তিনি প্রথম কম্পিউটার আবিষ্কার করেন ।তাই কম্পিউটারের আবিষ্কারক হিসেবে চার্লস ব্যাবেজ কে ধরা হয় । কিন্তু তিনি সম্পূর্ণ কম্পিউটার আবিষ্কার করতে পারেননি। তার আগেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পরে কম্পিউটার পুরোপুরিভাবে আবিষ্কৃত হয়েছে। তবে তার নির্দেশনা অনুযায়ী । তাই তাকে কম্পিউটারের আবিষ্কারক বা জনক বলা হয়।

কম্পিউটার শব্দের অর্থ কি?

আমরা আগেই জেনেছি – যে Compute শব্দের অর্থ হিসাব বা গণনা করাআর কম্পিউটার (computer) শব্দের অর্থ গণনাকারী যন্ত্র

কম্পিউটার কাকে বলে?

কম্পিউটার এমন একটি প্রযুক্তি যেটা ছাড়া কোন মানুষ কিছু কল্পনাই করতে পারে না। এখন ডিজিটাল যুগ সবকিছু ডিজিটাল হচ্ছে । আর সবকিছু ডিজিটাল হওয়ার সাথে সাথে মানুষের চিন্তাধারা মানুষের কাজকর্ম সব পাল্টে যাচ্ছে। মানুষের কাজকর্ম এখন সব প্রযুক্তির মাধ্যমে হচ্ছে। আর এ প্রযুক্তির মধ্যে কম্পিউটার অন্যতম। কম্পিউটারের মাধ্যমে আপনি ঘরে বসেই সব কাজ করতে পারেন।

আপনি ঘরে বসে ইনকাম করতে পারেন। ইনকামের অনেক ধরনের মাধ্যম বের হয়েছে। যেমন ধরেন ফ্রিল্যান্সিং বা ব্লগিং মানে যেটা আমি এখন করছি সেটাকে বুঝিয়েছি এবং তা করতে গেলে কম্পিউটার খুব প্রয়োজন হয়। কারণ কম্পিউটারে ব্লগিংটা খুব সহজ ভাবে করা যায় । অনেক ধরনের কাজ আছে অনলাইনে যেগুলো কম্পিউটারের মাধ্যমে খুব সহজেই করা যায়।

ডিজিটাল কম্পিউটার কাকে বলে?

ডিজিটাল কম্পিউটার হচ্ছে এমন একটি কম্পিউটার যা কিনা বাইনারি সংকেত 0 এবং 1 নিয়ে কাজ করে। কম্পিউটারে ইনপুট করা প্রতিটি ডাটা কে 0 এবং ১ এ রুপান্ত করে প্রসেসিং করে তারপর আউটপুট শো করে ডিজিটাল কম্পিউটার । Digital Computer মূলত তিনটি প্রিক্রিয়ায় কাজ সম্পন্ন করে থাকে সেগুলা হল –

  1. Input
  2. Processing
  3. Output

ইনপুট/Input

আমরা কম্পিউটারে যখন কোন ডাটা প্রবেশ করাই সেগুলা কে ইনপুট বলা হয়। হার্ডওয়ার এর মাধ্যমে ডাটা ইনপুট করে আমার মূলত কম্পিউটার কে কমান্ড দিয়ে থাকি। কিছু ইনপুট যন্ত্র যেমন –

  • কীবোর্ড
  • মাউস

Processing

আমাদের ডাটা ইনপুট করার পরে কম্পিউটার সেটাকে তার ভেতরে থাকা সফটওয়্যার এর মাধ্যমে প্রেসেসিং করে এবং আউটপুটে পাঠিয়ে দেয়।

Output:

ইনপুট করে ডাটাগুলা প্রসেসিং ইউনিটে প্রসেসিং হয়ে এবার আসে আউটপুটে। এবং কম্পিউটার তার খেল শো করে।

কম্পিউটারে খুব সহজভাবে কাজগুলো করা যায়। আবার কোন প্রতিষ্ঠান বা কোন ব্যবসা বা কোন কোম্পানি সবকিছুতেই কম্পিউটার খুবই প্রয়োজন হয় । এখন কোন একটা চাকরি পেতে গেলে আগে থাকা লাগে কম্পিউটারের যোগ্যতা। সে কম্পিউটার জানে কিনা সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কম্পিউটার সার্টিফিকেট ছাড়া এখন কোন চাকরি হয় না।

আগে তার কম্পিউটার সম্পর্কে কেমন যোগ্যতা আছে সেটা যেনে নেওয়া হয়। কারন প্রতিটা প্রতিষ্ঠানেই কম্পিউটার খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণ এখন প্রায়ই কাজ কম্পিউটারে করা লাগে । আর তাই আপনি যদি এখনো কম্পিউটার বিষয়ে পিছিয়ে থাকেন আপনি কিন্তু এখনো প্রযুক্তির দুনিয়ে থেকে বেশ পিছিয়ে।

এক কথায় কম্পিউটারের রয়েছে প্রচুর ব্যবহার। ঘরের কাজ থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক, বৈজ্ঞানিক ইত্যাদি নানা ক্ষেত্রে এর অপরিসীম ব্যবহার। সর্বোপরি যোগাযোগ ক্ষেত্রে এটি এনেছে অনন্য বিপ্লব। চিকিৎসা ও মানবকল্যাণেও এটি এক অনন্য সঙ্গী। এক কথায় কম্পিউটার এমন এক যন্ত্র যা প্রায় সকল কাজ করতে সক্ষম।

কম্পিউটার কোন কোন কাজে ব্যবহার হয় বা মানুষ কোন কোন কাজে ব্যবহার করছে সে সম্পর্কে একটা ধারণা দেই। যেমন ধরেন অফিস ব্যাবস্থাপনা,শিক্ষা ক্ষেত্রে,শিল্প ক্ষেত্রে,চিকিৎসা ক্ষেত্রে,কৃষি ক্ষেত্রে, গবেষণায়,সামরিক ক্ষেত্রে,তথ্য পরিসংখ্যানে,ডিজাইনে,প্রোগামিং,মুদ্রণ শিল্পে,যোগাযোগ ব্যবস্থায়, ব্যাংকিং জগতে, সংস্কৃতি ও বিনোদনে,আদালত, অর্থবাজারে,আবহাওয়ার পূর্বাভাসএ

মানে বলতে গেলে কম্পিউটার এখন সকল ধরনের কাজে ব্যবহার হচ্ছে বা মানুষ ব্যবহার করছে কারণ এখন প্রযুক্তি নির্ভরশীল দেশ হয়ে উঠছে এজন্য প্রযুক্তির ব্যবহার তেমন সব কাজে লাগছে।

কম্পিউটার কিভাবে কাজ করে?

আমি আগে একটা উদাহরণ দিয়েছি। এবার অন্যভাবে আরেকটা উদাহরণ দিয়ে বুঝাই । ধরেন একজন স্কুল টিচার আর একজন ছাত্র বা ছাত্রী। একজন ছাত্র বা ছাত্রী তার একটা সমস্যা হল বা একটা বিষয় সম্পর্কে জানা প্রয়োজন । সেই বিষয়টি তার শিক্ষককে বলল । বলার পর শিক্ষক সেটা গ্রহণ করল এবং শিক্ষক তার ব্রেন খাটিয়ে তাদের সেই বিষয়টিকে সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দিলো এবং তাদের মাঝে উপস্থাপন করলো।

তেমনি কম্পিউটার সমস্যা সমাধানের জন্য ব্যবহারকারীদের ডেটা বা কোন তথ্য গ্রহণ করে ।এবার গ্রহণ করার পর সে বিষয়টি কম্পিউটার নানা ধরনের প্রোগ্রামের মাধ্যমে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করে বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের সামনে উপস্থাপন করে। আশা করি কিছুটা হলেও বুঝতে পারেছেন

কম্পিউটার ডাটা কিভাবে গ্রহণ করে ?

কম্পিউটার ডেটা গ্রহণ করে কিবোর্ড ,মাউস ইত্যাদির মাধ্যমে। তারপর প্রসেস করে । প্রসেস করার পর প্রাপ্ত ডাটা গুলাকে মনিটর, প্রিন্টার কিংবা রিলেটেবল হার্ডওয়ার এর মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশ করে। তাহলে বুঝতেই পারছেন কম্পিউটার কিভাবে কাজ করে। এখন কম্পিউটারে কিছু বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জেনে নিন।

কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য

নিচে পয়েন্ট আকারে কম্পিউটারের কিছু বৈশিষ্ট তুলে ধরা হল –

  • কম্পিউটার প্রগ্রামিং এর মাধ্যমে ডিজিটাল কোড এর সংকেত এর মাধ্যমে কাজ করে তাই এটা বেশ দ্রুত যে কোন কাজ করতে সক্ষম।
  • কম্পিউটারের প্রোগ্রামে বা অপারেটিং সিস্টেমে তাকে যেভাবে ট্রেইন করা হয়েছে সেভাবে আপনার বা আমাদের সামনে ডাটা প্রেজেন্ট করে।
  • যেহেতু আমাদের মানুষের মেমরি আর কম্পিউটার এর মেমরি আলাদা । কম্পিউটার মেমরি কিন্তু কিছু ভুলে না, এটি তার নির্দিষ্ট স্টোরেজে আমাদের ডাটা কে সেভ করে রাখে।
  • কম্পিউটারের কোনো ক্লান্তি নেই । আপনার ক্লান্তি হতেই পারে । কিন্তু কম্পিউটার রাতদিন 24 ঘন্টা কাজ করতে পারে। যেটা আপনি পারবেন না।
  • সকল ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ খুব সহজে কম্পিউটারের মাধ্যমে করা যায় । এর জন্য মানুষ সকল ঝুঁকিপূর্ণ কাজ কম্পিউটার কে দিয়ে করায়।

এরকম অনেক ধরনের বৈশিষ্ট্য আছে কম্পিউটারে, জেটা আপনি কম্পিউটার ব্যাবহার করলেই বুঝতে পারবেন আস্তে আস্তে, আর তাই কম্পিউটার দিয়ে কি কি করা যায় না যায় সেটা কম্পিউটার ইউজ করলেই আপনি অবগত হবেন । এজন্য কম্পিউটার দ্বারা মানুষ এখন সব ধরনের কাজ করে। কারণ কম্পিউটার সব ধরনের সুবিধা দেয়। কম্পিউটার একদম নির্ভুলভাবে সবার কাজ সম্পন্ন করে দেয়।

তো এই ছিলো আমাদের আজকের লেখা । আশা করি কম্পিউটার কি? কম্পিউটার কাকে বলে? কম্পিউটারের জনক কে? ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কিছুটা হলেও ধারনা দিতে পেরেছি। ভাল্লাগ্লে ব্দনহুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ ❤

5/5 - (1 vote)

3 thoughts on “কম্পিউটার কি? কম্পিউটার কাকে বলে? কম্পিউটারের জনক কে?”

Leave a Comment