ইনকগনিটো মোড কি ? কতটুকু নিরাপদ ? ।What is Incognito mode ?

আমরা ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ের সময় বিভিন্ন ব্রাউজারের  কোনায় কানাই ,  চশমা পরা একটা  আইকনের
দেখা পাই, জি উনার নাম-ই ইনকগনিটো মোড ( Incognito Mode ) আসুন জেনে নেওয়া যাকএই ইনকগনিটো মোড কি? কি এই  চশমা ওয়ালার কাজ !  কেন উনি চশমা পরে থাকেন, উনার চশমার পাওয়ার কতটুকু, উনার চশমা ( Incognito tab) কতটুকু সিকিওর বা নিরাপদ . . 
চলুন চশমা পরা যাক,  থুক্কু  শুরু করা যাক 🥴  …

ইনকগনিটো মোড কি ? ( what Is Incognito mode ?)

সোজা বাংলায়,  ইনকগনিটো মোড (Incognito mode)  বা   ইনকগনিটো  ট্যাব (Incognito tab) হচ্ছে  ইন্টারনেট ব্রাউজারের  একটি ফিচার,  যেখানে ব্রাউজারে ক্যাশ, কুকিজ বা ব্রাউজিং  হিস্ট্রি টেম্পোরারি জমা হয়ে থাকে,  এবং ব্যাবহার শেষে আপনি যখনই  ইনকগনিটো মোড (Incognito Mode ) Off করে দেন তখন ওই Mode এ ব্যবহার করা ক্যাশ কুকিজ ব্রাউজিং হিস্ট্রি গুলো ডিলিট হয়ে যায় । 

ইনকগনিটো মোড কেন ব্যবহার করবো ? 

ব্রাউজারের ইনকগনিটো মোড অনেক ক্ষেত্রে খুবই  উপযোগী ।  যেমন – 

আপনি যখন কোন ওয়েবসাইটে আপনার সেকেন্ডারি অ্যাকাউন্ট লগইন করতে চান, তখন – একই ব্রাউজারে  সেটা আপনি ইনকগনিটো মোড ব্যবহার করে করতে পারবেন ।   যেহেতু ইনকগনিটো মোডে ডাটাগুলো আপনার ব্রাউজার থেকে আলাদা থাকে। আবার আমাদের ব্রাউজারে  জমা থাকা ক্যাশ কুকিজ গুলো ব্যবহার করে  আমাদের সামনে বিভিন্ন   অ্যাডস  শো করে, আপনি যদি চান যে আমার ব্রাউজারে ক্যাশ অ্যাডভারটাইজার  দের কাছ থেকে  লুকাতে  সেক্ষেত্রেও ইনকগনিটো মোড অনেকটা উপকারে আসবে । 

আমরা অনেকেই আছি যারা ইনকগনিটো মোড এর সঙ্গে পরিচিত এবং ব্যবহারও করি, অনেকে আবার  ইঙ্কগনিটো ট্যাব ওপেন করে ,গোপন কাজ কর্ম সেরে ভাবি, আমি অ্যানোনিমাস, কেউ কিচ্ছু টের পাইনি, আসলে কি তাই ?  Incognito tab এ আমরা কতটুকু নিরাপদ ? তার আগে জেনে নেওয়া জাক ইনকগনিটো মোড আসলে কিভাবে কাজ করে । 

ইনকগনিটো মোড কিভাবে কাজ করে ?

আমরা আমাদের ব্রাউজারে  ইনকগনিটো মোড (Incognito Mode)  অন করে যখন কোন  উইন্ডো বা ট্যাব ওপেন করি,তখন ব্রাউজারগুলো একটা নতুন সেশন তৈরি করে যেখানে আগে থেকে আমাদের  ব্রাউজারে সেভ থাকা   ডাটা, হিস্টরি  বা কুকিজ গুলো থেকে আলাদা করে রাখা হয়,  এবং টেম্পোরারি ভাবে নতুন সেশনে জেনারেট হওয়া ক্যাশ কুকিজ কিংবা হিস্ট্রি গুলো থাকে,  এবং  যখনই আপনি ইনকগনিটো ট্যাব  (Incognito Tab) টি  ডিজেবল করে দেন  তখন  ইনকগনিটো মোডে  জমা হওয়া টেম্পোরারি ক্যাশ কুকিজ গুলো ডিলিট হয়ে যায়, যাতে করে এরপর যখন কেউ এই ব্রাউজারটি ওপেন করবে তখন  পূর্বে ইনকগনিটো মোডে ব্যবহার হওয়া ব্রাউজিং হিস্টরি  বা  ডাটা গুলো আর দেখতে পাবে না।

তার মানে এটা নয় যে আপনি 100% অ্যানোনিমাস,প্রায় সব ব্রাউজারে ইনকগনিটো মোড ওপেন করার সময় একটা ওয়ার্নিং দেওয়া হয় যে –  ইনকগনিটো মোডে আপনার Main ব্রাউজার কোন ডাটা বা কুকিজ  এক্সেস করে না, তবে আপনার আইএসপি (ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার)  এবং আপনি যে সাইটে ভিজিট করেছেন সেই ওয়েবসাইট সার্ভার চাইলে আপনাকে  ট্র্যাক করতে পারবে, তার মানে ইনকগনিটো মোড ব্যবহার করে আপনি যদি আপনার অ্যাক্টিভিটি লুকাতে চান তাহলে আপনি ভুল  ভাবছেন ।

কারণ – 

ইনকগনিটো মোড শুধুমাত্র আপনার ডিভাইসের  ব্রাউজিং ডাটা গুলো ট্রাক না হওয়ার নিশ্চয়তা দেয়, কিন্তু ইনকগনিটো মোড ব্যবহার করে আপনি যখন কোন ওয়েবসাইট ভিজিট করছেন অর্থাৎ ওয়েবসাইট  সার্ভার এর কাছে রিকুয়েস্ট সেন্ড করছেন বা রিকুয়েস্ট রিসিভ করছেন সমস্ত ডাটা গুলো কিন্তু রাউট হচ্ছে  আপনার আইএসপি বা ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক প্রোভাইডারের সার্ভিস সার্ভার থেকেই ।

তাই আপনি সাধারণভাবে ব্রাউজিং করলে আপনার রিকোয়েস্ট গুলো ঠিক যেভাবে সার্ভারে পৌছাতো ইনকগনিটো  মোডে ও  একই ভাবে সার্ভারের রিকোয়েস্ট পৌঁছায় । তার মানে  ইনকগনিটো মোডে আপনার code:Incognito  রিকোয়েস্ট গুলো কোন ধরনের এনক্রিপশন এর ভেতর দিয়ে যাচ্ছে না তাই আপনি ইনকগনিটো মোড ব্যবহার করে আপনি কোন কোন ওয়েবসাইট ভিজিট করছেন বা আপনার ইন্টারনেট অ্যাক্টিভিটি ট্রেস করা সম্ভব। 

Incognito mod,incognito tab, ইনকগনিটো মোড কি, ইনকগনিটো মোড,ইনকগনিটো মোড কেন ব্যবহার করা হয়, new incognito tab, incognito,Anonimas

– তাহলে কি আমি কখনও অ্যানোনিমাস হতে পারব না ? 

– বা আমার আইএসপি ইন্টারনেট প্রোভাইডার এর থেকে আমার অ্যাক্টিভিটি লুকাতে পারবো না ?

– হ্যাঁ পারবেন,  তার জন্য আপনার প্রয়োজন হবে  একটি ভাল মানের ভিপিএন সার্ভিস  অথবা টর ব্রাউজার।  যেখানে আপনার  রিকোয়েস্ট ডাটা গুলো  এনক্রিপশনের ভেতর দিয়ে  সার্ভারে পৌঁছাবে এবং আপনি  অনেকখানি অ্যানোনিমাস   ফিল করবেন । 

আশা করি ইনকগনিটো মোড নিয়ে ন্যূনতম ধারণা দিতে পেরেছি । লেখাটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না,  কমেন্ট বক্সে আপনার মূল্যবান মতামত আশা করছি । 

Rate this post

Leave a Comment