মুদ্রাস্ফীতি ও মূল্যস্ফীতি কি?

হ্যালো বন্ধুরা কি অবস্থা সবার? আশা করি সবাই ভাল আছেন । আমিও ঠিকঠাক। তো আমরা আজ যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবো সেটা হলো মুদ্রাস্ফীতি ও মূল্যস্ফীতি কি? এগুলোর মধ্যে পার্থক্য কি? আরও অনেক কিছু। আমাদের আজকের বিষয়টা সম্পূর্ণ পড়লে আপনার বুঝতে পারবেন মুদ্রাস্ফীতি ও মূল্যস্ফীতি কি?

মূলত অর্থনীতিতে মুদ্রার পরিমাণ বেড়ে যাওয়াকে মুদ্রাস্ফীতি বলে। সহজভাবে বলতে গেলে, মুদ্রাস্ফীতি হল সময়ের সাথে সাথে মূল্য বৃদ্ধি। অনর্থ ভাষায় বললে, একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থে আপনি আগে যে তুলনায় জিনিস ক্রয় করতেন আর এখন অনেক কম জিনিষ ক্রয় করতে পারেন।

এটি ভালো করে বোঝার জন্য একটি উদাহরণ দেওয়া যাক। ধরুন আপনি আজ ২০০ টাকায় হালিম কিনলেন। বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতি ২০%। পরের বছর, একই হালিম কেনার জন্য আপনার খরচ পড়বে ২২০ টাকা। যদি আপনার আয় মুদ্রাস্ফীতির হারের অন্তত সমান হারে বৃদ্ধি না পায় তাহলে আপনি হালিম বা অন্যান্য যে কোন পণ্য কিনতে পারবেন না। আর যদি কিনতে পারেন তাহলে সেটা আপনাকে বেশি দামে কিনতে হবে।

মূল্যস্ফীতি হচ্ছে একেক সময় বা কোন একটা সঠিক সময়ে দ্রব্যমূল্যের দাম বেড়ে যাওয়া।

সহজভাবে বললে মূল্যস্ফীতি বলতে কোনো একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোন দেশের সেবার মূল্যের বা দ্রব্যের স্থায়ী একটা উর্ধগতি মানে ওপরের দিকে ওঠা বুঝায়। সাধারণভাবেই মানুষ নিত্যদিন যেসব দ্রব্যের প্রয়োজন বোধ করে তার দাম নিয়েই তারা ভাবতে থাকে। আর তাই মূল্যস্ফীতি শূধু অর্থনীতির সব দ্রব্যের দামের পরিবর্তনকেই বুঝায় না বরং জনগণের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম একটি নির্দিষ্ট সময়ে কতটুকু পরিবর্তিত হয়েছে সেটা কে নির্দেশ করে।

মুদ্রাস্ফীতির প্রকারভেদ:-

আমরা জানি সাধারণত মুদ্রাস্ফীতি দুই প্রকার:

  1. বাড়ন্ত চাহিদাজনিত মুদ্রাস্ফীতি
  2. উৎপাদনখরচ বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি

বাড়ন্ত চাহিদাজনিত মুদ্রাস্ফীতি:

যখন দেখি যে কোনো পণ্যের চাহিদা বাড়ছে কিন্তু সেই পণ্যের উৎপাদন অথবা যোগান বাড়ছে না বা অপরিবর্তিত থাকছে ,তখন সেই দ্রব্যের দাম বাড়ে। করোনার সময় দেখা গেছে বিভিন্ন দেশে খাদ্যপণ্যের দাম অনেক বেড়ে গেছে। কারণ লকডাউনের ফলে সঠিক ভাবে শ্রমিক,কাঁচামাল ইত্যাদির যোগান বা সাপ্লাই হয়নি। উৎপাদন কমে গেছে কিন্তু এদিকে চাহিদা খুব পররমান কমেনি।কারণ খাদ্য মানুষের নিত্য দিনের প্রয়োজনীয় জিনিস।

উৎপাদনখরচ বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি:

আপনি যখন কোনো জিনিস তৈরি করতে যাবেন তখন যে জিনিস লাগবে তার দাম যদি বৃদ্ধি পায়,তখন সাধারণ ভাবে দ্রব্যটির দাম বৃদ্ধি পায়।

কোনো দ্রব্য উৎপাদন করতে প্রধানত কি কি লাগে।

যে কোন দ্রব্য উৎপাদন করতে প্রধানত চারটি বস্তু লাগে। চারটি বস্তু অবশ্যই প্রয়োজন সেগুলো হলো

  1. Land,
  2. Labor,
  3. Capital and
  4. Entrepreneur.

মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্পাদনা:-

কোনো দেশের মুদ্রাস্ফীতি বা দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য সেই দেশের ব্যাঙ্ক বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং সেই দেশের সরকার একসাথে পরিকল্পনা করে এবং দেখে কি করলে মুদ্রাস্ফীতি বাদাম নিয়ন্ত্রণ থাকবে এবং সেইভাবে মুদ্রাস্ফীতি বা দাম স্থির করে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের দ্বারা যে গৃহীত কাজকর্ম বা পরিকল্পনা করা হয় তাকে মনিটরি পলিসি বলে। এবং সরকারের দ্বারা যে গৃহীত কার্যক্রম বা পদক্ষেপগুলি নেওয়া হয় তাকে ফিসকাল পলিসি বলে।

যখন মুদ্রাস্ফীতি বা দাম অনেক বেড়ে যায়,অর্থাৎ সাধারণত বাজারে প্রচুর টাকার জিনিস চলে আসে,তখন ভারতের কি ছু রিজার্ভ ব্যাঙ্ক তাদের আগের দামের তুলনায় আরও দাম বা “ব্যাঙ্ক রেট” বাড়িয়ে দেয়।যরফলে অন্যান্য ব্যাঙ্কগুলোও বিভিন্ন ধরনের ঋণে সুদের পরিমাণ আরো বাড়াতে বাধ্য হয়।যার কারণে ব্যাঙ্কগুলোকে বেশি টাকা সুদ দিতে হবে জেনে মানুষের চাহিদা কমে যায় ঋণ নেওয়া থেকে।

এবং আগে যে ঋণ নিয়েছে সেই ঋণ শোধ করতে তাদের অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হয়।সব দিক দিয়ে ভাবতে গেলে ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা আস্তে আস্তে কমে যায়। আবার যখন মুদ্রাস্ফীতির হার ঋণাত্মক অর্থাৎ বাজারে টাকার জোগান কমে যায়, তখন রিজার্ভ ব্যাঙ্ক গুলো “ব্যাঙ্ক রেট” কমিয়ে আগের তুলনায় কমিয়ে দেয়।

অন্যদিকে সরকার মুদ্রাস্ফীতি বা দাম নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিভিন্ন নীতি নির্ধারণ চালু করে।যেমন ধরুন, অতিরিক্ত করের জন্য জিনিসের দাম যদি বৃদ্ধি পায় তাহলে সরকার সেই করের বোঝা লাঘব করতে পারে। আবার সরকার বিভিন্ন কাজে বেতন বাড়িয়ে দিয়েএই সম্যসার সমাধান করতে পারেন।

মুল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্পাদনা:-

বিশ্বের বুকে আমাদের মাথাব্যথার সবচেয়ে বড় কারণ হল মূল্যস্ফীতি। সব দেশে মহামারী হয়েছে। যার কারণে নানা ধরনের বিধি-নিষেধ দেওয়া হয়েছে।আর তার মধ্য অধিকাংশ দেশে মহামারির বিধিনিষেধ শেষ হওয়ার পর এখন সবকিছু চাহিদা বেড়ে গেছে । এতদিনের কেনাকাটা না করতে পারার জন্য কেনাকাটা করে সব বাঁধ ভেঙে দিছে। মূল্যস্ফীতির রাশ টানতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হচ্ছে সুদহার । সুদ হার বৃদ্ধি করে চাহিদায় লাগাম বাড়ানো।

তো এই ছিল আজকের বিষয় মুদ্রাস্ফীতি ও মূল্যস্ফীতি সম্পর্কে । আশা করি মুদ্রাস্ফীতি ও মূল্যস্ফীতি কি? বুঝতে পেরেছেন। ধন্যবাদ ❤

5/5 - (1 vote)

1 thought on “মুদ্রাস্ফীতি ও মূল্যস্ফীতি কি?”

Leave a Comment