নতুন ফোন কেনার কিছুদিন পর স্লো হয়ে যাওয়ার কারণ ও তার প্রতিকার

আসসালামুআলাইকুম আশা করি সবাই ভালো আছেন । আজকে আমরা খুবই ইম্পর্টেন্ট একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে জাচ্ছি, এবং বিষয়টা ক্লিয়ার করার প্রয়োজন সবার কাছে, আর যে কারনে আজকের ব্লগটি লেখা, আর সেটা হল – যেই ফোনই আপনি কিনেন না কেন iPhone ছাড়া, ছয় মাস পার হতে না হতেই সেই ফোনটা স্লো হয়ে যাচ্ছে। কেন হচ্ছে? কেন এমনটা হচ্ছে? সব ফোনেই কি একই অবস্থা, নাকি স্পেসিফিক কোন ফোন সিরিজ গুলাতে এধরনের সমস্যা বা স্পেসিফিক প্রসেসর গুলাতে এধরনের সমস্যা!

মিডিয়াটেক প্রসেসর বলেন স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর বলেন এক্সিনোস এর প্রসেসর বলেন বা যে ধরণের প্রসেসর আপনি আপনার ফোনে ইউজ করেন না কেন 6 মাস থেকে 1 বছর ভালোভাবে চলছে। এবং তারপর ফোনটা স্লো হয়ে যাচ্ছে এবং এটা চোখে পড়ার মতো স্লো হয়ে যাচ্ছে। তো আজকের ব্লগে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো এবং এই প্রব্লেম থেকে কিছুটা হলেও সেফ থাকতে আমরা কি কি করতে পারি যাতে করে অ্যাটলিস্ট ফোন যেন অনেক স্লো না হয়ে যায়, এবং দীর্ঘ দিন ধরে যেন হ্যাসেল ছাড়া আমরা ফোনগুলা ব্যাবহার করতে পারি। সেসব বিষয় নিয়ে আজকের ব্লগে আলোচনা করবো তো চলুন তাহলে দেরি না করে শুরু করা যাক –

প্রথমত যেসব কারনে ফোনগুলো কিছুদিন পর স্লো হয়ে যায় তার মধ্যে এন্ড্রয়েড ভার্সনগুলা অনেক ইম্প্রট্যান্ট। আমরা জানি এন্ড্রয়েড ফোনের অনেকগুলো ভার্সন রয়েছে কিছু আছে – লাইট ভার্সন, কিছু আছে ফুল ভার্শন আবার কিছু আছে বেটা ভার্শন। আর এত এত রকমের ভার্শন থাকার কারণে ফোনের সাথে যেটা কনফ্লিক্ট হয়। কেন ফোনের সাথে conflict হয়? সেতা হচ্ছে আমাদের দ্বিতীয় কারণ, সেটা হল এক এক ধরণের ফোনে এক এক ধরণের OS।

দেখা গেল শাওমি তাদের নিজেদের অ্যান্ড্রয়েডে একরকম পারফরম্যান্সের প্রয়োজনে একভাবে কাস্টমাইজ করছে আবার রিয়েলমি এক রকম ভাবে করে স্যামসাং এক রকম ভাবে করে 1+ এক রকম ভাবে করে এমন ভাবে ইনফিনিক্স বলেন আর অনান্য কোম্পনি বলেন প্রায় সব কোম্পানি তাদের নিজেদের মতো করে নিজেদের UI এর সাথে ম্যাচ করে মিলিয়ে টিলিয়ে কাস্টমাইজ করে। এতে যে বিষয়টা হয় যে অনেক কাস্টমাইজ হয়ে যায় মানে মেইন যে এন্ডয়েড ভার্শনটা ছিলো সেটা থেকে অনেক কিছু চেঞ্জ হয়ে যায়।

আর এজন্য দেখা যায় যে ফোনগুলা প্রোপারলি অপটিমাইজ ভাবে কাজ করেনা। এবং সবথেকে বড় যে ব্যাপারটা সেটা হচ্ছে আমাদের ফোনে কিন্তু প্রচুর অ্যাপ থাকে এবং অ্যাপ কোম্পানিগুলা কিন্তু তাদের অ্যাপ গুলা সাধারণত মোবাইল কোম্পানি এবং মোবাইলের Android version এর ওপর বেজ করে ডেভেলপ বা আপডেট করে।

মেইনলি অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন টা যত থাকে সেটার উপর বেইজ করে অ্যাপ গুলো তাদের আপডেট করে যেমন – ফেসবুক অথবা হোয়াটসঅ্যাপ হতে পারে এগুলো কিন্তু অনেক আপডেট হয়। প্রবলেম ফেস করলে আপডেট করে। কিন্তু রিসেন্টলি দেখা যাচ্ছে যে একেক ফোনে একেক রকম প্রবলেম হয় তখন দেখা যাচ্ছে ঐ অ্যাপসগুলো কিন্তু ফোন ভেদে আপডেট টা এখনো সেভাবে দিতে পারেনা।

আবার তারা ট্রাই করতেছে – কারন অ্যাপস কোম্পানি তো নিজের অ্যাপস নিয়ে কাজ করে তারা কোন ফোনে কোন ইস্যু সেটার উপর বেজ করে যদি আপডেট দিতে যায় তাহলে কিন্তু খুবই কঠিন হয়ে যায় ব্যাপারটা। ধরেন ফেইসবুক শাওমির কোন একটা ফোনে বা মডেলে কোন প্রব্লেম নাই । আবার নির্দিষ্ট কয়েকটা মডেলের প্রবলেম হচ্ছে, আবার স্যামসাং কোন মডেলে প্রবলেম নাই ওয়ানপ্লাস এর কোন মডেলে যেয়ে প্রবলেম হচ্ছে

এইটা কিন্তু ফেসবুক বা WhatsApp যে অ্যাপস গুলোর ব্যাকেন্ডে যারা কাজ করে থাকে তাদের জন্য কন্টিনিয়াসলি ঠিকঠাক করে মানে বাবার অ্যাপ আপডেট করাটা কিন্তু অনেক জটিল একটা বিষয়। তো প্রধানত এই তিনটা জিনিস এই মুহূর্তে এন্ড্রোয়েড ফোনের জন্য সবচাইতে বড় হুমকি এবং এই তিনটা কারণে অপটিমাইজেশন প্রবলেম হচ্ছে, এবং দুঃখের কথা হল এই 3 টা প্রবলেম আমার চাইলেও সলভ করতে পারব না।

এটা নিয়ে আমাদের কিছু করার নেই। ঠিক যতদিন পর্যন্ত কোন নতুন টেকনোলজি না আসবে এই ধরনের প্রবলেম থেকে আমরা বের হতে পারব না। বাট কিছু প্রবলেমের সলিউশন কিন্তু রয়েছে, যেগুলা ফলো করলে কিছুটা হলেও আমরা পরিত্রাণ পেরে পারি।

তার মধ্যে নাম্বার ওয়ান হলো – র্যাম এবং স্টোরেজঃ এই দুটো জিনিস খুব ইম্পর্টেন্ট। রিসেন্টলি কিছু কিছু ফোন আছে যেগুলো কম Ram অর্থাৎ 4 জিবি র্যাম ফোন কিনলে ঠিক আছে আবার কিছু Phone আছে 6GB/120GB storage এঁর নিচে না কেনাই বেটার। যেমন Xiaomi ফোন গুলা আপনি যদি 15- 20000 টাকা রেঞ্জে যে ফোনগুলো রয়েছে আপনার যদি গেমা খেলার প্ল্যান থাকে সেটা আপনারা কখনো 4 জিবি র্যাম দিয়ে নিবানই না। 4/128GB তো ভুলেও নিবেন না মানে রিসেন্ট যে ফোনগুলো বের হয়েছে মানে এই বছরেরে মধ্যে ।

এই ফোনের কথা গুলা আমি স্পেশালি বলছি গেমিং এর ক্ষেত্রে হলে না নেওয়ার জন্য। তবে নরমাল ইউজের জন্য আপনি নিতে পারেন 4gb 64gb, কিন্তু শাওমি ফোনের সবচেয়ে বড় নেগেটিভ সাইট হল তাদের একটা জিনিস থাকে সেটা হল – Others নামের একটা ফোল্ডার থাকে। এই ফুলটা খুব দ্রুত বড় হতে থাকে ক্যাস ফাইল এটাতে জমতে থাকে এবং এটা সহজে ক্লিন করা যায় না তবে শাওমির এই Others ফোল্ডার কিভাবে ক্লিন করতে হয় এটা নিয়ে নিন ডিটেলস জানানোর চেষ্টা করবো কোন একদিন।

আপনি রিসেন্টলি ফোন কিনলে ট্রাই করবে 6/128GB কেনার জন্য যদি আপনার বাজেট ১৫ হাজার টাকার উপরে হয় তাহলে আপনি একটু Ram ম্যানেজমেন্ট বা ব্যাকগ্রাউন্ডের যখন অনেকগুলান করবেন তখন কিছুটা কম্ফোর্টেবল ফিল করেবেন।

আরেকটা বিষয় হলো – এখন কিন্তু বাজারে অনেক ধরণেরই ফোন পাওয়া যায় কিন্তু এই মুহূর্তে এসে আপনার বাজেট যদি ১৫ হাজার টাকার উপরে হয়, ভুলেও ইএমএমসি 5.1 ক্যাটাগরি স্টোরেজ দিয়ে ফোন নিবেন না । ট্রাই করবেন মিনিমাম ইউএফএস 2.1 ক্যাটাগরির ফোন নেওয়ার জন্য। র‍্যাম এবং স্টোরেজ কিন্তু খুবই ইনপরটেন্ট। এই দুইটা মেইন্টেইন করার চেষ্টা করবেন।

আপনি মিডিয়াটেকের প্রসেসর নিবেন নাকি স্নাপড্রাগনের প্রসেসর নিবেন এই মুহূর্তে এটা খুব একটা ভ্যারি করেনা। কেননা আমরা দেখেছি যে মিডিয়াটেকের নতুন প্রসেসরগুলো আগে থেকে অনেক ইম্প্রুভ হয়েছে। আগের মিডিয়াটেকের প্রসেসর গুলো বেশি প্রবলেম ছিল, যেমন ওভার হিটিং ইস্যু টা বেশি ছিলো কিন্তু এখন অনেকটা কমে এসেছে। এন্ড্রয়েড ভার্সন টা এখন অনেক লাইটার হচ্ছে তো আগে থেকে অনেক হালকা হয়ে যাচ্ছে তত মিডিয়াটেক প্রসেসর ইউজ করার কারনে যে হিটিং ইস্যুটা ছিলো সেটাও কিন্তু ডে বাই ডে কমে আসছে।

তো ফোনে কেনার সময় সবসবময় র‍্যাম এবং স্টোরেজ টা একটু কেয়ারফুলি দেখে নেওয়ার ট্রাই করবেন। আর বিশেষ করে শাওমি ফোনগুলা এটলিস্ট ৬জিবি দিয়ে নিবেন। কারন – শাওমি ফোনের Ram এবং স্টরেজটা একটু বেশি প্রয়োজন হয় । কেননা এটার ফোনের ক্যাশ অতি দ্রুত জমতে থাকে তবে অনান্য ফোনের ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও ঠিকাছে।

আরেকটা বিষয় হলো ক্যামেরা ফাংশন কিছুদিন পর দুর্বল হয়ে যায় এটা নিয়ে আমরা চেষ্টা করবো নতুন একটা আর্টিকেল লেখার জন্য। যে কেন কিছুদিন পর ক্যামেরা পারফরম্যান্স ডাউন হয়। আরেকটা বিষয় হলো রাইট নাউ টেকনোলজির একটা ট্রানজেশনাল পিরিয়ড চলছে। মানে নতুন কিছু একটা বের হতে যাচ্ছে ঠিক তার মাঝখানে আমরা আছি । মাঝখানে থাকলে যেটা হয় – অনেক

প্রবলেমেটিক প্রডাক্ট থাকে আর এজন্য এই মুহূর্তে ফোনগুলির ইস্যুু অনেক বেশি। দেখা যাচ্ছে যে আমরা একটা ফোন রিভিউ করতেছি এক মাস দুই মাস খুব ভালো হঠাৎ এমন একটা আপডেট আসলো তখন মনে হয় না যে আমি ফোনটা চালাইসি আগে বা চালানো হয়েছে যা পারফরমেনস দুই মাস পর অন্য রকম লাগতেছে। আর এঁর কারনে বছরে আমরা যে কবার ফোন রিভিউ করবো দেখা যায় সেকবার একেক রকমের ইম্প্রেশন দেখা দিচ্ছে ।

কারন ফোন অনেক দ্রুত আপডেট হয়ে যায়। যে যাই বলুক না কেন নতুন অবস্থায় একরকম থাকে দুই মাস পর এক রকম থাকে আবার অনেক সময় দেখা যায় 4/5 মাস পরে যেয়ে ফোনটা অনেক ভালো হয়ে গেছে অথবা খারাপ হয়ে গ্যাছে। তো মেইন প্রবলেম কিন্তু এগুলাই – এন্ড্রয়েড ভার্সন বলেন অপারেটিং সিস্টেম বা ইউআই এর কথা বলেন এবং মোবাইল ভেদে যে স্টোরেজ ইস্যু আছে ,

অ্যাপসের যে আপডেটে ব্যাপারগুলোতে সবকিছু মিলিয়ে কিন্তু প্রবলেমটা হয় সো আপনার মনে রাখবেন এবং ট্রাই করবেন আপনার ফোনটা প্রতিদিন একবার করে রিস্টার্ট দেওয়ার জন্য। সত্যি কথা বলতে কি আপনার ফোনটা যদি প্রতিদিন একবার রিস্টার্ট দেন আপনার ফোন অন্য ফোনের থেকে অনেক বেশি দিন ভালোভাবে ব্যাবহার করতে পারবেন।

তো এই ছিলো আজকের ব্লগ। আশা করি ভালো লেগেছে যদি ভালো লেগেই থাকে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ ❤

4/5 - (1 vote)

Leave a Comment