হিউয়েন সাং কোন দেশের পরিব্রাজক ? না জানা কথা

হ্যালো বন্ধুরা কি অবস্থা সবাই কেমন আছো? আশা করি সবাই অনেক ভালো আছো। আজ আমরা হিউয়েন সাং কোন দেশের পরিব্রাজক? সে ব্যাপারে ডিটেইলস জানার চেষ্টা করবো শুধু তাই নয় হিউয়েন সাং এর ব্যাপারে না জানা অনেক তথ্য়ও আজকের ব্লগে তুলে ধরার ট্রাই করবো। তো আপনি যদি হিউয়েন সাং এর জীবনী, হিউয়েন সাং এর লেখা গ্রন্থ বা বই, কোন দেশের নাগরিক বা আধিবাসী, কত সালে বাংলায় আসেন এবং কার শাসন আমলে ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়ে থাকেন তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্য।

Xuanzang image
Xuanzang image

হিউয়েন সাং কোন দেশের পরিব্রাজক ?

হিউয়েন সাং মূলত চায়না বা চৈনিক পরিব্রাজক ছিলেন। তিনি ৬৩৮ সালের দিকে বাংলায় আসেন । রাজা হর্ষবর্ধনের রাজত্বকালে হিউয়েন সাং ভারতবর্ষে আগমন করেন। মূলত তিনি বৌদ্ধধর্মের একজন পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। ধর্মের প্রকৃত জ্ঞানলাভের জন্য তিনি সরকারি নিসেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও ভারত অভিমুখে গমন করেন।

সম্রাট হর্ষবর্ধনের রাজত্বকালে চীন এবং ভারতীয় বৌদ্ধধর্মের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনে তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। তিনি ভারতবর্ষ থেকে বৌদ্ধ ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ পুথি, মূর্তি, ও বই সংগ্রহ করে নিয়ে যান। এর সংগ্রহ করা পুঁথিগুলি চিনা ভাষায় অনুবাদ করে বৌদ্ধধর্ম প্রচার ও প্রসারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। তার একান্ত চেষ্টার ফলে চীনে আস্তে আস্তে বৌদ্ধ ধর্ম বিশেষ সন্মান ও খ্যাতি লাভ করে।

হিউয়েন সাং এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

উত্তর চীনের ঠান্ডা এবং শুষ্ক জলবায়ুর মধ্যে হিউয়েন সাং ৬০২ সালে চীনের হেনান প্রদেশের গৌসি টাউনের চিনহি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম চেন হুই জিনি একজন শুই সম্রাজ্যের একজন ম্যাজিষ্ট্রেট। ছোটবেলা থেকেই সাং ধর্ম চর্চা, ও পড়াশোনায় বেশ আগ্রহী ছিলেন এবং আস্তে আস্তে তার জ্ঞান পিপাসা আরো বাড়তে থাকে। তিনি তার বাবার কাছেই প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। হিউয়েন সাং ছিলেন পরিবারের কনিষ্ঠতম সন্তান। ছেলে বেলাই কিন্তু কেউ ধারনাও করেনি যে তাদের এই সন্তান একদিন বিখ্যাত পণ্ডিত এবং তীর্থযাত্রী হবেন।

চেন পরিবারের প্রায় সবাই কনফুসিয়াস তত্বে বিশ্বাসী ছিলেন। তাদের পূর্বপুরুষদের মতো তার পিতা চেন হুই ও কনফুসিয়াস তত্বের অনুসারি হবেন এমনটাই বিশ্বাস ছিল সবার। কিন্ত তার বাবা বৌদ্ধ ধর্মে আগ্রহী ছিলেন এবং বাড়িতে কনফুসিয়াস তত্বের সাথে বৌদ্ধ ধর্মের ও চর্চা করতেন। স্বাভাবিক ভাবে তার বাবার প্রভাব হিউয়েন সাং এর ওপরে প্রতিয়মান হয়। এবং বাবার মত তিনিও বৌদ্ধ ধর্মের অনুরাগী হয়ে ওঠেন।

অল্প বয়স থেকেই, হিউয়েন সাং অসাধারণ বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছিলেন । এক বার একটি শাস্ত্রের উপর একটি বক্তৃতা শুনে তিনি একটি সম্পূর্ণ শাস্ত্র মুখস্থ করে ফেলেন। হাজার হাজার লক্ষ শব্দের এমন একটি শাস্ত্র মুখস্থ করায় সবাই বেশ অবাক হয়ে যান এবং সেখাণকার সন্ন্যাসীরা তাকে প্রতিভাবান হিসাবে অভিহিত করে।

৬১১ সালে যখন তার বাবা চেন হুই মারা যান। হিউয়েন সাং এবং তার ভাই তখন জিং তু মঠে পড়াশোনা করেন। এর পরে রাজনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় তাকে তারপরে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে চ্যাঙ্গান শহরে যান। মাত্র ২০ বছর বয়সে তিনি সম্পূর্ণ ভিক্ষুতে পরিণত হন।

সাং যতো বেশি পড়তে থাকে তত একটা জিনিস বুঝতে পারে যে একেক শাস্ত্রে একেকজন একেকভাবে বিবরণ দিয়েছেন তাই তিনি শাস্ত্রের আসল মর্মকথা বুঝতে এবং জানতে আসল শাস্ত্র শিখতে দেশ ত্যাগ করেন। এর পর তিনি ভারতে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ বিখ্যাত পন্ডিত শীলভদ্রের কাছে শিক্ষা লাভ করেন। তখন নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল ভারতের সমস্ত বৌদ্ধ মন্দিরগুলির মধ্যে বৃহত্তম এবং বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়।

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচ বছর পড়াশোনা করার পর হিউয়েন সাং দক্ষিণের দেশগুলি সহ সারা ভারত ভ্রমণ করে বৌদ্ধধর্মের স্থানগুলি পরিদর্শন করেছিলেন ।

৬৩ বছর বয়সে, অতিরিক্ত কাজ স্বাস্থ্যের জটিলতার কারণে, হিউয়েন সাং চ্যাং আনের ইউ হুয়া মঠে মারা যান।

হিউয়েন সাং কে নিয়ে করা সাধারন প্রশ্ন এবং তার উত্তর নিচে দেওয়া হল –

হিউয়েন সাং কত সালে বাংলায় আসেন?

হিউয়েন সাং ৬৩৮ সালের দিকে বাংলায় আসেন ।

হিউয়েন সাং কোন দেশের পর্যটক ছিলেন?

হিউয়েন সাং চীনের পর্যটক ছিলেন।

হিউয়েন সাং কোন দেশের অধিবাসী?

হিউয়েন সাং চীন দেশের অধিবাসী

হিউয়েন সাং এর গুরুর নাম কি?

হিউয়েন সাং অনেক জায়গায় শিক্ষা লাভ করেছেন তাই তার শিক্ষা গুরুও ছিলেন তাদের মধ্যে ভারতে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিখ্যাত পন্ডিত শীলভদ্র উল্লেখযোগ্য একজন শিক্ষাগুরু।

হিউয়েন সাং কার রাজত্বকালে ভারতে আসেন?

হিউয়েন সাং রাজা হর্ষবর্ধনের রাজত্বকালে ভারতে আসেন

5/5 - (1 vote)

Leave a Comment